হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে অকটেন বিক্রি করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রমাণিত হওয়ায় ময়না মিয়া (৬৩) নামের ওই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কল্যাণপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট Ujjal Roy।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার অকটেনের মূল্য ১৪০ টাকা হলেও অভিযুক্ত ব্যবসায়ী তা ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে অকটেন বিক্রির প্রকৃত মূল্য যাচাই করা হয় এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট Ujjal Roy বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি আরও জানান, বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম, সিন্ডিকেট বা মূল্য কারসাজি সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, “জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন অভিযানের ফলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে তা সরাসরি পরিবহন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু বাহুবল নয়, জেলার অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান চালানো হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সার্বিকভাবে, এই অভিযান প্রমাণ করে যে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে অন্য ব্যবসায়ীরাও সতর্ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক