মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি এসে পৌঁছালে আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বিমানবন্দরের ৮ নম্বর কার্গো গেটের সামনে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও ৩ লাখ টাকা সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় ওয়ারিশনামা দাখিল করতে হবে।
নিহত গিরিশ চন্দ্র সূত্রধর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিলেন। তার আয়ে পরিবার চলছিল এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহেও তিনি অবদান রাখছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার জীবনাবসান ঘটে।
তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা। স্ত্রী ও তিন সন্তান এখন কঠিন ভবিষ্যতের মুখোমুখি। স্থানীয়ভাবে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আত্মীয়স্বজনরা দ্রুত দাফন সম্পন্নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাহরাইনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আজসহ ৫ জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার আগে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে বিপদের সময় সরকার দ্রুত সহায়তা দিতে পারে।
প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় শক্তি। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিবেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং দেশের প্রবাসী শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক