ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দুই আসামিকে জামিন দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তা ও গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীমা আতিকুল্লাহ খান ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে রাজিয়া রহমান ও তার সহযোগীদের প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেন।
বাদী শামীমা আতিকুল্লাহ খান দীর্ঘদিন ধরে রাজিয়াকে তার পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতেন। রাজিয়ার ছোটবেলা থেকেই তিনি তাকে তার সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাজিয়াকে প্রতিষ্ঠানের চিফ বিজনেস অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সম্পূর্ণ আস্থা রাখা হয়। তার যাতায়াতের জন্য গাড়ি দেওয়া হয়, বিবাহের ব্যয় বহন করা হয়, এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার প্রদান করা হয়।
শামীমা আতিকুল্লাহ খানের স্বামী আতিকুল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসার কিছু ব্যাংক ঋণ জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে। রাজিয়া রহমান এই সুযোগে নিজেকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক প্রদর্শন করেন। রাজিয়া ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব নিজের হাতে নেন। বাদী শামীমা আতিকুল্লাহ খান বনানী শাখার পূবালী ব্যাংকে একটি নতুন একাউন্ট খোলেন এবং রাজিয়াকে এই একাউন্টের নমিনি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজিয়া ও তার সহযোগীরা শামীমার কাছ থেকে মোট ৮০ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে হাতিয়েছেন। তারা আসলে এই অর্থ নিজেরা আত্মসাৎ করেন। শামীমা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করতেন যে ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের কাজ চলছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন যে, কোন অর্থ ঋণ সমন্বয়ের জন্য জমা হয়নি। বরং ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক শামীমা ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে।
অর্থ ফেরত চাইলে রাজিয়া ও অন্য আসামিরা যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে শুরু করেন এবং অফিসে আসা বন্ধ করেন। মামলায় অন্যান্য আসামিরা হলেন মনোয়ারা বেগম ওরফে মনোয়ারা রিয়াজ এবং রাজিয়া রহমান ওরফে বৃষ্টি। এরপর আত্মসমর্পণের পর আদালত দুই আসামিকে আপসের শর্তে জামিন দিয়েছেন। আইনজীবী রাজু এইচ পলাশ জানান, জামিন আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এই মামলায় অর্থ আত্মসাত এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি দেশের কর্পোরেট ও ব্যাংকিং খাতে সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি দেখিয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা সঠিক নয় এবং নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য। আদালতের জামিন প্রদানের সিদ্ধান্তের ফলে মামলার অন্যান্য আসামিরা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।