মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Fars News Agency নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি ইরানের কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ ও চাপের মুখে পড়ার প্রেক্ষাপটেই এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ালেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। বরং ইরান তাদের সামরিক অবস্থান আরও জোরদার করেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
এরপর ওই বিমানের ক্রুদের উদ্ধারে পাঠানো আরেকটি A-10 Thunderbolt II যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে CBS News জানায়, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিতে থাকা দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই সংঘাতের সূচনা হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। রাজধানী তেহরানে চালানো ওই হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসে।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে। এতে করে পুরো অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। বরং সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
কসমিক ডেস্ক