কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের পথে সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের পথে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 19, 2026 ইং
কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের পথে সরকার ছবির ক্যাপশন:
ad728

রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আশির দশক থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানির ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে—এমন বাস্তবতায় কটন সুতা আমদানিতে বন্ড–সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষ করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতার ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। কারণ, বন্ড সুবিধার আওতায় এই দুই ধরনের সুতাই সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে বন্ড সুবিধা বহাল থাকবে কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এনবিআরের।

দেশীয় বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) দীর্ঘদিন ধরেই এ সুবিধা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর এবং পরে ২৯ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করে, যা গত ৬ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এনবিআরকে পাঠানো চিঠিতে এই প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশটি বহুমাত্রিকভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে বস্ত্র ও পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাকের অবদান প্রায় ৫৫ শতাংশ। নিট পোশাক উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতা, যা মূলত ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

বিটিএমএ জানায়, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে গড় খরচ প্রায় ৩ ডলার। অথচ ভারতে একই মানের সুতা উৎপাদন খরচ ২ দশমিক ৮৫ থেকে ২ দশমিক ৯০ ডলার। বর্তমানে সেই সুতা বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে মাত্র ২ দশমিক ৫ ডলারে। ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় গত দুই অর্থবছরে দেশীয় সুতা বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে দেশীয় কারখানাগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। আর্থিক ক্ষতির কারণে ইতোমধ্যে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এতে নিট পোশাক কারখানাগুলো আমদানি করা সুতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এর ফলে মূল্য সংযোজন কমবে, লিড টাইম বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভারতীয় সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিতে পারে এবং এতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সাশ্রয়ী কাঁচামাল আমদানি করে কারখানাগুলো টিকে আছে।

এদিকে বিটিএমএর সহসভাপতি মো. শামীম ইসলাম বলেন, বন্ড সুবিধা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলে দেশীয় বস্ত্রখাত কিছুটা স্বস্তি পাবে। সরকার চাইলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্ক–সুবিধা ধরে রাখতে হলে অন্তত ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে দেশীয় সুতা উৎপাদন টিকিয়ে রাখা দীর্ঘমেয়াদে পোশাকশিল্পের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা খাদ্য গুদানে ৫৫৬ মেট্রিক টন ধান–চালের গরমিল, গোডাউন সিল

জেলা খাদ্য গুদানে ৫৫৬ মেট্রিক টন ধান–চালের গরমিল, গোডাউন সিল