বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন পল কাপুর, যিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস-এ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পল কাপুর তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করেছে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে ঢাকার ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানের ভিত্তিতেই সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি এবং নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তি সহায়তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
পল কাপুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এমন প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়, যা বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে। এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি মার্কিন প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়, যেখানে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া সময়ের দাবি। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো খাতে এই সম্পর্কের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, পল কাপুরের এই বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা ও কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্বের পথ তৈরি করতে পারে।a
কসমিক ডেস্ক