হরমুজ প্রণালি সংকটে বিপর্যস্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হরমুজ প্রণালি সংকটে বিপর্যস্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালি সংকটে বিপর্যস্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ছবির ক্যাপশন:

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি খাতেও। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট সৃষ্টি হওয়ায় দেশের বাণিজ্য কার্যক্রম নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সবজি রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ইউরোপে তৈরি পোশাক রপ্তানির খরচও বেড়ে গেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নানা ধরনের বিঘ্ন দেখা যাচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি রপ্তানি কার্যক্রমও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তৈরি পোশাক খাতের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজে স্যাম্পল পাঠানো বা আনা, ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের সঙ্গে জরুরি কাগজপত্র আদান-প্রদান—এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়াই জটিল হয়ে উঠছে।

শুধু পরিবহন সংকটই নয়, জ্বালানি ঘাটতির কারণেও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ডিজেলের অভাবে অনেক কারখানায় জেনারেটর চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যেতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোও মধ্যপ্রাচ্যগামী কনটেইনার পরিবহনে অতিরিক্ত সারচার্জ আরোপ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে থাকা মধ্যপ্রাচ্যগামী কনটেইনারের ওপরও এই অতিরিক্ত চার্জ বসানো হয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের বুকিং সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে অনেক শিপিং লাইন। এর ফলে ওই অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আমদানি-রপ্তানি খাতের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। বৈশ্বিক সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানিও অনেকাংশে এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।

এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই রুটে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত থাকে, তাহলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে পরিবহন ব্যয়, বিমা প্রিমিয়াম এবং পণ্য সরবরাহের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলো এতে বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে, যা কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে ডিজেল সংকটের কারণে অনেক গার্মেন্টস কারখানায় জেনারেটর চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে উৎপাদন কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। একই সঙ্গে অফডকগুলো থেকে বন্দরে পণ্যবাহী গাড়ি পাঠানোর হারও কমে গেছে। এতে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে বাংলাদেশের বহিঃখাতের ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ মার্কিন ডলার বাড়লে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব শিল্প উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

ডিসিসিআই মনে করছে, যদি সংঘাতের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাত, যার মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প অন্যতম, এই পরিস্থিতিতে বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্নের মুখে পড়তে পারে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প পথে আটলান্টিক মহাসাগর ঘুরে জাহাজ চলাচল করায় পরিবহন সময় প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন অব্যাহত রাখা। বিদ্যুৎ সরবরাহে লোডশেডিং অনেক বেড়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে, আর গড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

এই পরিস্থিতিতে অনেক কারখানাকে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। কিন্তু জেনারেটর চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রপ্তানি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইসলামের নামে প্রতারণা করছে জামায়াত-শিবির: শীর্ষ ওলামায়ে কেরা

ইসলামের নামে প্রতারণা করছে জামায়াত-শিবির: শীর্ষ ওলামায়ে কেরা