আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনি ঐক্য ও আসন সমঝোতার মাধ্যমে বড় ধরনের বিজয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোচ্ছে দলটি। তবে শুধু নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়, জয়ী হলে সরকার পরিচালনায় কোনো ধরনের অচলাবস্থা তৈরি না হয়— সে লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার পরিচালনার নীতি-কৌশল, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে দলটি। রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার নজির স্থাপন করাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সরকার পরিচালনার মৌলিক পলিসি পেপার চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এসব নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই নীতিমালাগুলো নিয়ে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দিনব্যাপী একটি ‘পলিসি সামিট’ আয়োজন করেছে জামায়াতে ইসলামী। এতে দেশের রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে দলটি।
জামায়াতের এবারের নির্বাচনি স্লোগান— ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’। এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি ন্যায়সঙ্গত, দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিককেন্দ্রিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে দলটি। কার্যকর, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনমুখী শাসনব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের শাসন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। পলিসি সামিটে এসব পরিকল্পনার ডিজিটাল উপস্থাপনাও করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেগুলো বিশিষ্টজনদের সামনে তুলে ধরে তাদের মতামত নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে দলীয় সদস্যদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব প্রস্তুতির কথা ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদেরও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জামায়াতের নীতি ও অবস্থান জানার পর আন্তর্জাতিক মহলেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
এদিকে জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছে দলটি। নেতাদের মতে, জনসমর্থন বাড়তে থাকায় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার নতুন নয় এবং জনগণ এতে বিভ্রান্ত হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।
জামায়াতের নেতারা জানান, বিজয়ী হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সৎ, নীতিবান ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্য নিয়েই দলটি এগোচ্ছে। তরুণদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নতুন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন ও সম্ভাব্য সরকার গঠনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও তৎপরতা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক