বগুড়ায় কিস্তির টাকা আদায়কে ঘিরে একটি এনজিওর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। ‘উদ্দীপন’ নামে পরিচিত ওই সংস্থার অফিসে হামলার ঘটনায় দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কার্যালয় থেকে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা পাট বীজাগারের সামনে অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাতের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ অফিসে ঢুকে হামলা চালান।
আহত দুই কর্মী হলেন প্রোগ্রাম অফিসার হাসিনুর রহমান (৩৪) এবং ফার্স্ট ক্রেডিট অফিসার শিমুল আলী (২৭)। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তারা দুজনই আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থার ফার্স্ট ক্রেডিট অফিসার রাজিয়া সুলতানা জানান, দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি আচমকা কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালান। তারা অফিসের ভেতরে থাকা কম্পিউটার, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করেন। এ সময় কার্যালয়ে থাকা নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল।
রাজিয়া সুলতানা আরও বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে খান্দার এলাকার নূর ইসলাম নাহিদের স্ত্রী মাহমুদা রহমান সংস্থাটি থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেন। তবে এ পর্যন্ত কোনো কিস্তি পরিশোধ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার বিকেলে কিস্তি প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে এনজিওর এক কর্মীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই ঘটনার পর রাতেই কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নূর ইসলাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে Shajahanpur Police Station-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এনজিও কার্যালয়ে হামলা ও কর্মীদের ওপর আঘাতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে এনজিও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আহত কর্মীদের চিকিৎসা এবং ঘটনার তদন্ত এখন প্রশাসনের নজরে রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কসমিক ডেস্ক