মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সকালে ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সূর্যোদয়ের পরপরই তাঁরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছু সময় নীরবতা পালন করেন। নীরবতার এই মুহূর্তে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস গভীরভাবে স্মরণ করা হয়। তাঁদের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। লাখো শহীদের আত্মবলিদান, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয় স্বাধীনতা। সেই ইতিহাস স্মরণ করতেই প্রতি বছর বিজয় দিবসে জাতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার এই শ্রদ্ধা নিবেদন নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এখানে শ্রদ্ধা জানানো মানে শহীদদের আদর্শ ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি এই দিবসের গুরুত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে এবং জাতির ইতিহাসে বিজয়ের চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করেছে।
কসমিক ডেস্ক