যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কার্যালয়ের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয় বলে জানা গেছে। পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দুই মিনিট ১৬ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের। ভিডিওতে দেখা যায়, তারাবির নামাজের সময় বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের প্রধান দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জন যুবক। তারা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে দেয়ালে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙান।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ছবি টাঙানোর সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশে হাসবে’ এবং ‘বিপুল ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—এমন স্লোগান দিতে দিতে তারা দ্রুত কার্যালয় ত্যাগ করেন। পুরো ঘটনাটি অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালা ভেঙে ঢুকে পড়া ব্যক্তিরা বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তারা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ থাকা ওই কার্যালয়ে হঠাৎ করে এমন তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকেই।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক কার্যালয়ে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ ও স্লোগান দেওয়া আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হতে পারে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।