ফিতরা কাদের ওপর ওয়াজিব? ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ফিতরা কাদের ওপর ওয়াজিব? ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
ফিতরা কাদের ওপর ওয়াজিব? ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ছবির ক্যাপশন: ঈদুল ফিতরের আগে মুসলমানদের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব

রমজান মাসের শেষে মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা। এটি মূলত ঈদুল ফিতরের আগে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এই নেসাব নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য অনুযায়ী। অর্থাৎ কারও কাছে যদি প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে এত পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

কার ওপর ফিতরা ওয়াজিব

সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া বা সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া শর্ত নয়। বরং যার মালিকানায় নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার ওপরই এটি ওয়াজিব।

এ কারণে অবুঝ-নাবালেগ শিশু, মুসাফির কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি—যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়—তাদের ওপরও ফিতরা ওয়াজিব হবে।

এ ক্ষেত্রে তাদের সম্পদ থেকে তাদের অভিভাবক সদকাতুল ফিতর আদায় করবেন।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড় সকল মুসলমানের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসলামি ফিকহ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করা হয়েছে, নাবালেগ বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সম্পদ থাকলে তাদের অভিভাবক সেই সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করবেন।

নেসাবের ক্ষেত্রে কোন সম্পদ হিসাব হবে

সদকাতুল ফিতরের নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু নগদ টাকা নয়, আরও বিভিন্ন ধরনের সম্পদ হিসাবের মধ্যে আসে।

যেমন—

  • টাকা-পয়সা

  • সোনা-রুপা

  • অলংকার

  • ব্যবসায়িক পণ্য

  • বসবাসের প্রয়োজন নেই এমন জমি

  • অতিরিক্ত বাড়ি

  • অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র

এসব সম্পদের মোট মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের হয়, তাহলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়ে যায়।

তবে বসবাসের জন্য ব্যবহৃত বাড়ি, দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা খোরাকির জন্য ব্যবহৃত সম্পদ সাধারণত নেসাবের হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না।

নেসাবের ক্ষেত্রে বছরপূর্তি জরুরি নয়

যাকাতের ক্ষেত্রে যেমন এক বছর সম্পদ থাকা শর্ত, সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় যদি কারও কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হয়ে যায়।

তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হন, তাহলে তার মোট সম্পদ থেকে ঋণের পরিমাণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করতে হবে।

রোজা না রাখলেও ফিতরা দিতে হবে

কেউ যদি অসুস্থতা, ভ্রমণ বা অন্য কোনো কারণে রমজানের রোজা রাখতে না পারেন, তবুও যদি তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে।

ইসলামি ফিকহ গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে-তেও এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিধান

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময়।

তাই যদি কোনো শিশু সুবহে সাদিকের পরে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়।

অন্যদিকে যদি কেউ সুবহে সাদিকের আগে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার ওপরও ফিতরা ওয়াজিব হবে না।

এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহ গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে এবং খুলাসাতুল ফাতাওয়া-তে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায়।

উপসংহার

সদকাতুল ফিতর ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক বিধান। এর মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ ঈদের আনন্দে শরিক হওয়ার সুযোগ পায়।

তাই যাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব, তাদের উচিত যথাসময়ে এটি আদায় করা এবং ইসলামের এই মানবিক বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুললেন মোহসিন রশীদ

ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুললেন মোহসিন রশীদ