ফেনীর পরশুরাম উপজেলার যুবলীগ নেতা মো. ইয়াসিন শরীফ মজুমদার বাবার জানাজায় অংশ নিতে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। সোমবার (২ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। জানাজা শেষে তিনি পুনরায় কারাগারে ফিরানো হয়।
মো. ইয়াসিন শরীফ মজুমদার পরশুরামের দক্ষিণ কোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদারের একমাত্র ছেলে এবং পরশুরাম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। তিনি গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মহিপালে ছাত্রহত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে ফেনী কারাগারে ছিলেন। তার কয়েদি নম্বর ৩১৬৯/২০২৫।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার দুপুরে মো. ইয়াসিন শরীফ মজুমদারের বাবা রফিকুল ইসলাম মজুমদার (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরিবারের আবেদন ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদনের ভিত্তিতে তাকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির পর পুলিশ একটি প্রিজন ভ্যানে তাকে পরশুরাম উপজেলার সলিয়া ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার সময় যুবলীগ নেতার দুই পাশে দুজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তার বাঁ হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল এবং একজন পুলিশ সদস্য দড়ি ধরে রেখেছিলেন। আশপাশে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. জাকারিয়া জানান, “কারাবন্দি ইয়াসিন শরীফ মজুমদারের পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে বিধিমোতাবেক তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে বাবার জানাজার জন্য সুনির্দিষ্ট সময়ে কারাগার থেকে বের করা হয়। জানাজার শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ সূত্র জানায়, ইয়াসিন শরীফ মজুমদার গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মহিপালে ঘটে যাওয়া ছাত্র হত্যার মামলায় ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি ফেনী কারাগারে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, জানাজার সময় পুলিশ পাহারার মধ্যে থাকা এবং যুবলীগ নেতার হাতে হাতকড়া থাকার পরও পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা জানাজার শোক জানাতে উপস্থিত হন। প্রিজন ভ্যানে পুলিশসহ তাকে জানাজা স্থলে নিয়ে যাওয়া ও পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহল দেখছেন, প্যারোল ব্যবস্থার মাধ্যমে আটক কারাবন্দিদের পরিবারের জরুরি পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ পাহারায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
ফেনীর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক নেতাদের মানবিক ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়। পুলিশের তত্ত্বাবধানে প্যারোল ব্যবস্থা দিয়ে নিরাপদে জানাজার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, কারাগারে থাকা বন্দিদের পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ অনুমতি দেয়ার নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নিশ্চিত করেছেন, প্যারোল ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দিদের মানবিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা হয়।
কসমিক ডেস্ক