নারায়ণগঞ্জের Narayanganj জেলার Fatullah এলাকায় থানা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আদনান ইব্রাহীমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে Narayanganj General Hospital-এর মর্গে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আদনান ইব্রাহীম মুসলিমনগর এলাকার মৃত আবুল বাশারের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে মৎস্যজীবী দলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ফতুল্লা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আদনান ইব্রাহীম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। বুধবার রাতে তিনি নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোরে সাহরি খাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকতে গেলে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে কক্ষে প্রবেশ করেন। তখন তারা দেখতে পান, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ রয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে Fatullah Model Thana পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবতাব আলী জানান, ভোরে খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিজ কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবেই বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্তের ওপর।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সক্রিয় সংগঠকের এমন মৃত্যু দল ও এলাকাবাসীর জন্য বড় ধাক্কা। এখন সবার নজর ময়নাতদন্তের ফলাফলের দিকে, যা পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে।
কসমিক ডেস্ক