কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আশিকের ওপর হামলার অভিযোগে স্থানীয় এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সামারচর এলাকায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এলাকাবাসী ও উপজেলা ছাত্রদলের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আশিককে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত আশিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আহত আশিকের মা শাহানারা বেগম, তার স্ত্রী মাহফুজা ইসলাম এবং জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরকার নাসির উদ্দিন মোল্লা। তারা বলেন, এই হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে আশিকের স্ত্রী মাহফুজা ইসলাম কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আশিক মিয়া স্থানীয়ভাবে একটি দোকান পরিচালনা করেন। ওই দোকানের মাধ্যমে তিনি মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের ব্যবসা করে আসছেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী কয়েক দফা অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এরপর থেকেই তারা সন্দেহ করতে থাকে যে আশিক মিয়াই সেনাবাহিনীকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। এই সন্দেহ থেকেই তারা আশিকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৭ মার্চ রাত প্রায় ১০টার দিকে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শালধর সামারচর এলাকার বড় পুকুরপাড় এলাকায় আশিককে আটক করা হয়। সেখানে অভিযুক্তরা তাকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ তুহিন ধারালো ছুরি দিয়ে আশিকের পেটে ও বাম বাহুতে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় মিলন মিয়া আরেকটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর আঘাত করেন। এছাড়া তাকে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা আশিককে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আশিকের পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক