ভুল সিদ্ধান্তে উড়ে গেল বিমানের ২৩ কোটি টাকা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভুল সিদ্ধান্তে উড়ে গেল বিমানের ২৩ কোটি টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 17, 2026 ইং
ভুল সিদ্ধান্তে উড়ে গেল বিমানের ২৩ কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন:
ad728

একটি উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ার আগেই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে উড়ে গেছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারে দেখা দেওয়া একটি কারিগরি ত্রুটির সঠিক কারণ নির্ণয় না করেই পর্যায়ক্রমে বদলে ফেলা হয়েছে তিনটি ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, সমস্যাটি যন্ত্রে নয়—বরং ছিল উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের রঙে।

এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে গচ্চা দিতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। প্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠানে এমন ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দায় কার—সে বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিমানের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত মাসে একটি বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। ত্রুটির প্রকৃত কারণ যাচাই না করেই গত ১০ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির একটি ভিএফএসজি (ভেরিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি স্টার্টার জেনারেটর) পরিবর্তন করা হয়। দায়িত্বে ছিলেন বিমানের প্রকৌশলী হিরা লাল। ত্রুটি না সারায় ১৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার একই যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ২৩ ডিসেম্বর তৃতীয় দফায় আরেকটি ভিএফএসজি স্থাপন করা হয়।

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই উড়োজাহাজে তিনটি ভিএফএসজি বদল হলেও ত্রুটি থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি ভিএফএসজির আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় লাখ মার্কিন ডলার। তিনটি যন্ত্রাংশ কিনতে বিমানের ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ধরে) প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

তিনবার যন্ত্রাংশ বদলের পরও সমস্যা না মেটায় বিষয়টি নতুন করে বিশ্লেষণ করেন বিমানের প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তখনই ধরা পড়ে, ভিএফএসজিতে কোনো ত্রুটি ছিল না। মূল সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের রঙ ত্রুটিযুক্ত হওয়ায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতেই সঠিকভাবে ডায়াগনোসিস করা হলে এবং তেলের কুলার মেরামত বা প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব ছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বিমানের অভ্যন্তরে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জানুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে উপপ্রধান প্রকৌশলীকে (ইঞ্জিনিয়ারিং বেইস মেইনটেন্যান্স)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপমহাব্যবস্থাপক (ট্রেনিং এরোস্পেস) এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যবস্থাপক (অ্যাকাউন্টস–প্যাসেঞ্জার রেভিনিউ প্রসেস র্যাপিড)। প্রয়োজনে কমিটি যেকোনো কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে।

তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজে ভিএফএসজি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত যথাযথ কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে একাধিকবার যন্ত্রাংশ বদলের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি, রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় অবহেলা, সিদ্ধান্তগত ত্রুটি বা পদ্ধতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়াও কমিটির দায়িত্ব।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর ই-মেইলের মাধ্যমে আনসারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিমানের প্রকৌশল বিভাগে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়, যারা পূর্ববর্তী সরকারের সময় বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছে। অভিযোগে প্রকৌশলী হিরা লালসহ আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, অতীতেও ভুল কারিগরি সিদ্ধান্তের কারণে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সংস্থাকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বুশরা ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।’


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইসলাম ও সহনশীলতা: ধৈর্য্য ও শান্তির পথে কুরআন ও নবীর শিক্ষার

ইসলাম ও সহনশীলতা: ধৈর্য্য ও শান্তির পথে কুরআন ও নবীর শিক্ষার