নওগাঁ পৌর এলাকায় একটি জমি নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। পিপলস সিটি নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কম মূল্যে জমি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে জমির মালিকদের হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ শহরের একটি রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ২২ জন ওয়ারিশের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেওয়ান মিজানুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার দাদা রিয়াজ উদ্দিন ১৯৭৩ সালে ফজলুর রহমান দেওয়ানের কাছ থেকে নওগাঁ পৌরসভার কোমাইগাড়ী মৌজার আরএস ১৫৮ নম্বর খতিয়ানের ৪৫৪ নম্বর দাগভুক্ত ৮২ শতক জমি ক্রয় করেন।
তিনি জানান, রিয়াজ উদ্দিন জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করেননি। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ২২ জন ওয়ারিশ সম্পত্তিটির বৈধ মালিক হন। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি জমিটি তাদের নামে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা নিয়মিত সরকারি খাজনা ও কর পরিশোধ করে সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, তাদের জমির পাশে ‘পিপলস সিটি’ নামের একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে জমিটি কম মূল্যে ক্রয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। কিন্তু জমির মালিকরা সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নওগাঁ আমলী আদালতে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলার বাদী হিসেবে রয়েছেন পিপলস সিটির চেয়ারম্যান এবং নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী আতিকুর রহমান। তারা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পাশাপাশি কিছু অনলাইন গণমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছে, যা তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে জমির মালিকানা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাদের কাছে সম্পত্তির দলিল, নামজারি, সরকারি রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে, যা তাদের বৈধ মালিকানা প্রমাণ করে।
তিনি আরও বলেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরতে এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জমি বিরোধ ও মামলা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।