ঢাকায় মোবাইল ব্যবসায়ীদের কর্মসূচি ভাঙল পুলিশ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঢাকায় মোবাইল ব্যবসায়ীদের কর্মসূচি ভাঙল পুলিশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 5, 2026 ইং
ঢাকায় মোবাইল ব্যবসায়ীদের কর্মসূচি ভাঙল পুলিশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ এবং বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তিসহ একাধিক দাবিতে দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়ক অবরোধ করা হলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রধান সড়ক ও মোড়গুলোতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।

এমবিসিবির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান নেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এ সময় অনেককে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। সড়কের ওপর বসে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিপেটা করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে কিছু সময় পর তারা আবার জড়ো হলে পুলিশ পুনরায় তাদের সরে যেতে অনুরোধ জানায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পিছু হটে বাংলামোটরের দিকের সড়কে অবস্থান নেন এবং সেখানে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট শামীম মোল্লা জানান, অবরোধ শুরুর সময় পুলিশ ছয় থেকে সাতজন ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, আন্দোলনকারীরা সোনারগাঁও মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সড়কে বসে পড়েন। বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা সরে না গেলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও হঠাৎ করে সোনারগাঁও মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

তিনি জানান, ওই হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে আন্দোলনকারীরা অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন, যার মধ্যে একজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারও রয়েছেন।

এদিকে পুলিশের রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানিয়েছেন, এনইআইআর পদ্ধতি আগামী তিন মাস বন্ধ থাকবে। রোববার মোবাইল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, তিন মাস পর এনইআইআর কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রেপ্তার ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন, সরকার এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ করবে না। রোববার বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বিটিআরসি ভবনে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ ও সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অপরাধের লাইসেন্স চাইছেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, গ্রাহকের হ্যান্ডসেট নিরাপদ রাখতে এনইআইআর কার্যক্রম চালু রাখা জরুরি। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে এবং কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেট বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর কার্যক্রম চালু করে সরকার।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফাহমিদা নবী- জীবন, গান ও শিল্প-পরিচয়

ফাহমিদা নবী- জীবন, গান ও শিল্প-পরিচয়