বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টক শো-তে মন্তব্য করে বলেছেন, মব-হত্যার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার দায়ী। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, প্রতিটি মবের হাতে হত্যাকৃত ব্যক্তির জন্য ইউনূস সরকারকে অবশ্যই দায়ী করা যায় এবং করা উচিত।”
তুষার আরও বলেন, মবকে চালু করার পেছনে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “ড. ইউনূস মব চালু করেননি? মব আছে আইনের মধ্যে? বিচার করেছেন?” তার বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার মব-ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেনি।
আব্দুন নূর তুষার যুক্তি দেখান, ড. ইউনূস মবকে প্ররোচিত করার জন্য বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “উনার পরিষ্কার বক্তৃতা আছে, ‘গ্রামেও এসব লোক আছে, তোমাদের শরীরে তেজ নেই?’” তুষার বলছেন, এমন বক্তব্য মানুষকে উৎসাহিত করে। “শরীরের তেজ দিয়ে কি আইন প্রয়োগ করতে হয়? উনার বক্তৃতার মধ্যে উনি মবকে উৎসাহ দিয়েছেন।”
চিকিৎসক তুষার আরো উল্লেখ করেছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি দায়িত্ব পালন করত, তাহলে মব-হত্যা রোধ করা যেত। কিন্তু সরকার আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে মবকে অবলম্বন হিসেবে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার হাতে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিরোধ করবে, আইন প্রতিরোধ করবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এসে আপনি বলবেন ‘তেজ দেখাও’, তো সেটা মবকে উৎসাহ দেওয়া না?”
তুষারের এই মন্তব্য দেশের আইন ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি গভীর আলোচনার সূত্রপাত করেছে। তিনি মনে করান যে, সরকার ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা মব-হত্যার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। বিশেষত, সরকারের নেতৃত্ব যদি সংবিধান ও আইনের শাসন কার্যকরভাবে নিশ্চিত না করে, তাহলে সমাজে অনিরাপত্তা এবং আইন-হকারমুক্তি দেখা দেয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার এবং প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষ অপরাধী কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত হয়। মব-হত্যার ঘটনা তারই এক উদাহরণ। ড. ইউনূসের বক্তৃতা এবং প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলা এই পরিস্থিতি তৈরিতে সাহায্য করেছে বলে তুষার মন্তব্য করেন।
সংক্ষেপে, আব্দুন নূর তুষারের বক্তব্য অনুযায়ী, মব-হত্যার দায় ইউনূস সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর বর্তায়। তিনি সরকারের পদক্ষেপের অভাব ও উপযুক্ত আইন প্রয়োগের ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করছে।
কসমিক ডেস্ক