যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানজুড়ে প্রস্তুতি, রাস্তায় বিক্ষোভ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানজুড়ে প্রস্তুতি, রাস্তায় বিক্ষোভ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানজুড়ে প্রস্তুতি, রাস্তায় বিক্ষোভ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ ছবির ক্যাপশন:

ইরানে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। Donald Trump-এর নতুন করে সামরিক হামলার হুমকির পর দেশজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী Tehran-এর রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পর্যন্ত সর্বত্র যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারে প্রতিদিন রাতেই হাজারো মানুষ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। ইরানের পতাকায় সজ্জিত এসব সমাবেশে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে বিক্রি হচ্ছে দেশপ্রেমমূলক বিভিন্ন সামগ্রী, যা জনমনে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলছে।

এই সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যেও যুদ্ধের প্রস্তুতির মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিয়ানা নামের এক তরুণী বলেন, দেশের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও তিনি প্রস্তুত। তার মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন, দেশের সেনাবাহিনী ও নেতৃত্ব যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে Donald Trump মন্তব্য করেন, “ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে।” এই বক্তব্যের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার গুঞ্জন সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া এক বৃদ্ধের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ইরানের প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি, কোনো বোমা নয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর উপস্থিতিও এখন আরও দৃশ্যমান। শুধু সামরিক বাহিনী নয়, সাধারণ জনগণকেও অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের ভানাক স্কয়ারে এমন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নারীদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে। সেখানে প্রশিক্ষকরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, খুলে ফেলা ও পুনরায় জোড়া লাগানোর কৌশল শেখাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে শিশুদের মাঝেও যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। কোথাও কোথাও ছোট শিশুদের খেলাচ্ছলে অস্ত্র হাতে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে, যা সামাজিকভাবে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা স্পষ্ট। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের উপস্থাপকরা সরাসরি সম্প্রচারে হাতে অস্ত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এমনকি লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র চালানোর দৃশ্যও প্রচার করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে যুদ্ধের বাস্তবতা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব কার্যক্রম শুধুমাত্র সামরিক প্রস্তুতি নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিকভাবে জনগণকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার একটি কৌশল। রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এবং জনসমাবেশের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন বিশ্বজুড়ে নজর, এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় কি না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
লাল গালিচায় রাজকীয় বিদায় পেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ

লাল গালিচায় রাজকীয় বিদায় পেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ