হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ এনজিওর নির্বাহী পরিচালক নুরুল হককে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে র্যাব-৯, সিপিসি-৩-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সাজ্জাদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার নুরুল হক বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লাকুড়ীপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলার চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী প্রায় এক বছর আগে নুরুল হকের পরিচালিত এনজিওতে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেন। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে নুরুল হক তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে জিম্মি করেন।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মহাশয়ের বাজারে তার কার্যালয়ের ভেতরে নুরুল হক প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, নুরুল হক ওই সময় তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে অচেতন করে নুরুল হকের বন্ধু ও প্রবাসীদের কাছে তুলে দেওয়া হতো।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাহুবল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ওই তরুণী নয়, এনজিওর আরও কয়েকজন নারী কর্মীও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলার আরও দুই তরুণী ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
র্যাব-৯ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে মানবাধিকার সংস্থা ও ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’র আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় নারীদের জিম্মি করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক অবস্থায় থাকা নুরুল হক র্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক