ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শক্তিশালী দলগুলোর জন্য প্রতিটি ম্যাচই যে কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে, তার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল বেলজিয়াম ও মিসরের লড়াই। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়াম মাঠে নেমেছিল জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সংগঠিত ফুটবল খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিশ্চিত করে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিজেদের ঝুলিতে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই মিসর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয়। মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে গড়ে ওঠা আক্রমণভাগ বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। অন্যদিকে কেভিন ডি ব্রুইনার সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি বেলজিয়াম।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে আসে প্রথম গোল। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি করে মিসর। সেই আক্রমণের শেষ স্পর্শে ইমাম আশুর বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর বেলজিয়াম কিছুটা চাপে পড়ে যায় এবং মিসরের রক্ষণভাগও অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে থাকে।
প্রথমার্ধের বাকি সময় এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেলজিয়াম বলের দখল বেশি রাখলেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খায়। মিসরের ডিফেন্ডাররা ডি ব্রুইনা ও তাঁর সতীর্থদের গতিপথ আটকে দিতে সফল হন। ফলে ম্যাচ যত এগোতে থাকে, ততই বড় অঘটনের সম্ভাবনা দেখা দিতে থাকে।
তবে ৬৬তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বেলজিয়ামের একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলের মাধ্যমে সমতায় ফিরে আসে বেলজিয়াম এবং ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
সমতা ফেরানোর পর বেলজিয়াম জয়সূচক গোলের খোঁজে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ডি ব্রুইনার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ গড়ে উঠলেও মিসরের রক্ষণভাগ দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখে। গোলরক্ষকও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সফল সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
অন্যদিকে মিসরও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজেছে। সালাহর গতিময়তা ও অভিজ্ঞতা দলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি।
এই ড্রয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের চলতি আসরে আবারও প্রমাণ হলো যে নামের জোরে কোনো ম্যাচ জেতা যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে তুলনামূলক কম আলোচিত দলগুলো বড় দলগুলোর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। মিসরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মূল্যবান এক পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব যত এগোচ্ছে, ততই প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে এই ড্র উভয় দলের পরবর্তী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বেলজিয়াম জয় হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়লেও মিসর আত্মবিশ্বাস ও সন্তুষ্টি নিয়েই নিজেদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে।
কসমিক ডেস্ক