আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে মোংলা বন্দরে একটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পানামা পতাকাবাহী জাহাজটির নাম ‘এমভি এইচটিপি আম্বার’। গত ৮ জানুয়ারি দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে জাহাজটি আটক করা হলেও ছয় দিন পর বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরের নওয়াপাড়াভিত্তিক সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’ জাহাজটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। বাংলাদেশে জাহাজটির শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠান কসমস শিপিং লাইন্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ভারতের পারাদ্বীপ বন্দর থেকে ৯ হাজার ৬০০ টন সার নিয়ে ‘এমভি এইচটিপি আম্বার’ জাহাজটি যাত্রা করে। জাহাজটি ২৭ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছায়। ওই সার আমদানির দায়িত্বে ছিল ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’।
সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে না পারায় জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডমিরালটি স্যুট (সামুদ্রিক আইন) ১/২০২৬-এর আওতায় গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে।
ওই মামলার পরদিন, অর্থাৎ ৯ জানুয়ারি উচ্চ আদালত মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জাহাজটি আটক রাখার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে ‘এমভি এইচটিপি আম্বার’ জাহাজটি মোংলা বন্দরের বেসক্রিক এলাকার ৪ নম্বর বয়ায় নোঙর করে রাখা হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাহাজটি বন্দরের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাহাজটি অন্য কোথাও যেতে পারবে না।
উল্লেখ্য, মোংলা বন্দরে এটি প্রথম কোনো বিদেশি জাহাজ আটক হওয়ার ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৩ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা বহনকারী লাইব্রেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমভি পানাগিয়া কানালা’ নামের একটি জাহাজও উচ্চ আদালতের নির্দেশে মোংলা বন্দরে আটক ছিল।
নৌ-পরিবহন ও বন্দর সংশ্লিষ্ট মহলে এ ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি কার্যক্রমে আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কসমিক ডেস্ক