মায়ানমারের সংঘাতে পাঁচ বছরে নিহত ১ লাখের বেশি মানুষ: এসিএলইডি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মায়ানমারের সংঘাতে পাঁচ বছরে নিহত ১ লাখের বেশি মানুষ: এসিএলইডি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 1, 2026 ইং
মায়ানমারের সংঘাতে পাঁচ বছরে নিহত ১ লাখের বেশি মানুষ: এসিএলইডি ছবির ক্যাপশন:

মায়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংঘাতে পাঁচ বছরে এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি (Armed Conflict Location & Event Data Project)। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় অন্তত ১ লাখ ১১৪ জন নিহত হয়েছেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তৎকালীন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে আটক করে। এর মাধ্যমে মায়ানমারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হয়। এরপর অনেক আন্দোলনকারী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিত হয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মায়ানমারের সংঘাত এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর অন্যতম। যদিও সরকারি পর্যায়ে নিহতের নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পর্যবেক্ষকদের তথ্য সংঘাতের ব্যাপক মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবাও অনেক এলাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রাখাইন রাজ্যের এক বাসিন্দা জানান, বিমান হামলায় তিনি তাঁর স্বামীকে হারিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। মধ্য মাগওয়ে অঞ্চলের আরেক বাসিন্দা বলেন, তাঁর ছেলে গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী দলে যোগ দিয়ে নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরিবারের সদস্যরা যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্যও সম্পন্ন করতে পারেননি।

এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সান মন থান্টের মতে, এই সংঘাত অত্যন্ত প্রাণঘাতী এবং এর প্রভাব মায়ানমারের প্রায় সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটি দেশজুড়ে এক হাজার ২০০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতি শনাক্ত করেছে, যা সংঘাতের জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সমন্বিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও পরবর্তীতে সামরিক বাহিনী কিছু কৌশলগত সুবিধা পুনরুদ্ধার করে। এ সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং যুদ্ধবিরতির ঘটনাও পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলেছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৈন্যসংকট মোকাবিলায় দেশটির সামরিক প্রশাসন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আইন কার্যকর করে। এর আওতায় হাজার হাজার নাগরিককে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, মায়ানমারের সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় শরণার্থী প্রবাহ বৃদ্ধি, মানবিক সহায়তার চাহিদা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং সীমান্তভিত্তিক অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ঈদুল আজহার ছুটি কমালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শুরু বিতর্ক

ঈদুল আজহার ছুটি কমালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শুরু বিতর্ক