মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালি আমদানি করে সৌদি আরব? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালি আমদানি করে সৌদি আরব?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 7, 2026 ইং
মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালি আমদানি করে সৌদি আরব? ছবির ক্যাপশন: মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালি আমদানি করে সৌদি আরব?

মরুভূমির দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে বালি একটি প্রাকৃতিকভাবে সহজলভ্য সম্পদ বলে মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিস্ময়কর হলেও সত্য, দেশটি নির্মাণকাজের জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বালি বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মরুভূমির বালি দীর্ঘদিন বাতাসের ঘর্ষণে গড়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ায় বালির কণাগুলো গোল ও মসৃণ হয়ে যায়। ফলে সেগুলো একে অপরের সঙ্গে ভালোভাবে আটকে থাকতে পারে না। কিন্তু নির্মাণ শিল্পে ব্যবহারের জন্য এমন বালি উপযোগী নয়।

নির্মাণকাজে প্রয়োজন হয় খসখসে ও কোণাযুক্ত বালি কণা। এই ধরনের কণা সাধারণত নদী, হ্রদ বা প্রবাহমান পানির নিচে তৈরি হয়। পানির প্রবাহ ও পাথরের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে বালির কণাগুলো ভাঙা ও রুক্ষ হয়, যা সিমেন্টের সঙ্গে মিশে শক্ত কংক্রিট কাঠামো তৈরি করতে সাহায্য করে।

এই কারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ নির্মাণ খাতে বিদেশি বালির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো এই চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ‘নিয়োম’সহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী প্রয়োজন হচ্ছে।

২০২৩ সালে সৌদি আরব অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের বালি আমদানি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশও অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশের নদী ও হিমবাহ অঞ্চলের বালির ওপর নির্ভর করছে।

অস্ট্রেলিয়ার নদী ও হিমবাহ অঞ্চলে তৈরি হওয়া বালি বর্তমানে আন্তর্জাতিক নির্মাণ শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টন বালি নদীখাত থেকে উত্তোলন করা হয়। ১৯৭৬ সালের পর থেকে এই ব্যবহার প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি ছাড়া পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ এখন বালি।

গত পাঁচ দশকে বালির বৈশ্বিক চাহিদা বছরে গড়ে প্রায় ৩.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশাল চাহিদার কারণে বিশ্বজুড়ে একটি নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ব্যবহৃত সব বালি একত্র করা যেত, তাহলে তা দিয়ে পৃথিবীর চারপাশে ২৭ মিটার উঁচু ও ২৭ মিটার পুরু একটি বিশাল দেয়াল তৈরি করা সম্ভব হতো—যা বালির বিপুল ব্যবহারের মাত্রা বোঝায়।

কিন্তু এই চাহিদার বিপরীতে প্রাকৃতিক সরবরাহ সীমিত। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের প্রবণতা বাড়ছে। এতে পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে ব্যাপকভাবে।

অতিরিক্ত বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, তীরভাঙন বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কিছু উপকূলীয় অঞ্চলে ছোট দ্বীপ পর্যন্ত বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ বিকল্প উপায় খুঁজছে। কোথাও পাথর ভেঙে কৃত্রিম বালি তৈরি করা হচ্ছে, আবার পুরনো ভবন ও অবকাঠামো পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে নির্মাণ উপকরণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত বালির চাহিদা ও সংকটের মধ্যে কার্যকর ও টেকসই সমাধান পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।

বিশ্বজুড়ে তাই বালি এখন শুধু একটি নির্মাণ উপাদান নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
টঙ্গীতে রিয়েল এস্টেট মালিকের অফিসের সামনে গুলি ও ককটেল বিস্ফ

টঙ্গীতে রিয়েল এস্টেট মালিকের অফিসের সামনে গুলি ও ককটেল বিস্ফ