দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ধানুশকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ুতে তাঁর ফ্যান ক্লাবের সাংগঠনিক তৎপরতা, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তবে কি রাজনীতিতে আসছেন এই তারকা? যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি।
সম্প্রতি ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ধানুশ সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভক্তদের ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সেই শক্তিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। তিনি প্রতিবেশীদের সমস্যা জানার, তাদের পাশে দাঁড়ানোর এবং সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসে। তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস থাকায় ধানুশকে নিয়েও আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
এর আগে রজনীকান্ত রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে থালাপতি বিজয় ইতোমধ্যেই নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। ফলে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের আরেক জনপ্রিয় মুখ ধানুশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কৌতূহল বেড়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে ধানুশের ‘ওম নমঃ শিবায়’ উচ্চারণও সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিনেতার বাবা ও নির্মাতা কস্তুরি রাজাকে ধানুশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি।
ধানুশের ফ্যান ক্লাবের পতাকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। তবে ফ্যান ক্লাবের নেতা ও পরিচালক সুব্রামানিয়াম শিবা এসব জল্পনা নাকচ করে জানান, এটি নতুন কোনো রাজনৈতিক প্রতীক নয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত আয়োজনে একই পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি শুধুমাত্র ব্যবহারিক সুবিধার জন্য এর আকার ছোট করা হয়েছে।
এদিকে ক্ষমতাসীন ডিএমকে জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন এবং কেউ রাজনীতিতে এলে তাকে স্বাগত জানানো হবে।
সব মিলিয়ে ধানুশকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা অব্যাহত থাকলেও, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। আপাতত তিনি অভিনয় ও নির্মাণকাজেই মনোযোগী রয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক