নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ছোট ফাউসা চক এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তাফিজুর রহমান ইমন।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. কাউসার (৩৫), দীপু মোল্লা (৩০), রুবেল (৩২), হুমায়ুন (৩৫) এবং মো. কাউসার মিয়া (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে এলাকার উর্বর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে এবং পরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তাফিজুর রহমান ইমন বলেন, কৃষিজমি রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রির মতো অবৈধ কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কৃষিজমি নষ্ট করে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
তার মতে, কৃষিজমি সংরক্ষণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রির প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়।
এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কৃষিজমি সংরক্ষণে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক