আড়ং পেল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড: বিশ্বের বৃহত্তম কারুশিল্প বিপণন কেন্দ্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আড়ং পেল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড: বিশ্বের বৃহত্তম কারুশিল্প বিপণন কেন্দ্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 10, 2026 ইং
আড়ং পেল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড: বিশ্বের বৃহত্তম কারুশিল্প বিপণন কেন্দ্র ছবির ক্যাপশন:

ব্র্যাকের সামাজিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং-এর ধানমণ্ডি ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কারুশিল্প বিপণন কেন্দ্র হিসেবে। এই স্বীকৃতি আউটলেটটির বিশাল পরিসর, বৈচিত্র্যময় কারুশিল্প এবং ক্রাফট অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক মানে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সার্টিফিকেট উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ মিউজিক ভিডিও প্রদর্শিত হয়, যেখানে আরমিন মুসা এবং ঘাসফড়িং কয়ার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আনন্দলোকে’ পরিবেশন করেন। ভিডিওটিতে ধানমণ্ডি ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের জীবন্ত প্রদর্শনভূমি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কারুশিল্প, জীবনকাহিনী এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একসাথে গাঁথা।

ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, “এটি শুধু একটি রেকর্ড নয়; এটি কারুশিল্পের পেছনে থাকা মানুষের স্বীকৃতি। কারুশিল্পকে সম্মান জানানো মানে আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা। আর এর পরিসর যত বড় হবে, ততই মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ বাড়বে। এই অর্জন সেই কারুশিল্পীদের উৎসর্গ, যাদের দক্ষতা ঐতিহ্যকে জীবিকা ও মর্যাদায় রূপ দেয়।”

ধানমণ্ডি ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটের স্থাপত্যে আড়ং-এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রিবন-প্রেরিত নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে এক অনন্য স্থাপত্যশৈলীর অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য ও কারুশিল্প নির্মাণের মধ্যে রয়েছে—‘সাঁওতাল গাঁও’ টেরাকোটা ওয়াল, যা প্রায় ১০০টি কুমোর পরিবারের অংশগ্রহণে নির্মিত একটি বৃহৎ মৃৎশিল্প স্থাপনা; এবং ‘দ্য গ্রেট এরিনা’, ২৫০ জন কারিগরের ছয় মাসের পরিশ্রমে তৈরি ৪৪ ফুট দীর্ঘ নকশি কাঁথা, যা চার তলায় বিস্তৃত এবং বাংলাদেশের সূচিশিল্প ঐতিহ্যের প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এই বিশ্বরেকর্ড অর্জনের উপলক্ষে দেশব্যাপী উদযাপন শুরু হচ্ছে। দেশের ১০টি আড়ং আউটলেটে একটি পপ-আপ গ্যালারি অভিজ্ঞতা আয়োজন করা হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা ধানমণ্ডি ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটের বৈশিষ্ট্য এবং এই বিশ্বরেকর্ড অর্জনের গল্প কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।

আড়ং-এর এই অর্জন কেবলমাত্র একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়; এটি বাংলাদেশের কারুশিল্প এবং সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরে। প্রতিটি ক্রয় কারুশিল্পীদের জীবিকা বজায় রাখতে সহায়তা করছে এবং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে জীবন্ত রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে।

আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে আড়ং-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা চাই দর্শনার্থীরা শুধু পণ্য কিনবেন না, বরং কারুশিল্পের গল্প শুনবেন, কারিগরের দক্ষতা এবং ঐতিহ্যকে অনুভব করবেন।” এই উদ্যোগ কারুশিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বরেকর্ড প্রাপ্ত ধানমণ্ডি আউটলেটটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কারুশিল্প ও সামাজিক উদ্যোগকে প্রমাণ করেছে। এটি শুধু আড়ং-এর জন্য নয়, বরং পুরো দেশের কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য একটি গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, আড়ং-এর এই গ্লোবাল স্বীকৃতি বাংলাদেশি কারুশিল্পের মর্যাদা বৃদ্ধিতে, কারিগরদের উৎসাহিত করতে এবং স্থানীয় ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি একটি অনন্য উদাহরণ, যেখানে সামাজিক উদ্যোগ ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ একসাথে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঝিনাইদহে বাসে আগুন ও পাম্প ভাঙচুর: ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা জে

ঝিনাইদহে বাসে আগুন ও পাম্প ভাঙচুর: ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা জে