দেশনেত্রীর কবর জিয়ারতে ফুল ও অশ্রুতে ভিজল শেরেবাংলা নগর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দেশনেত্রীর কবর জিয়ারতে ফুল ও অশ্রুতে ভিজল শেরেবাংলা নগর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 2, 2026 ইং
দেশনেত্রীর কবর জিয়ারতে ফুল ও অশ্রুতে ভিজল শেরেবাংলা নগর ছবির ক্যাপশন: শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে আগত মানুষ
ad728

ঢাকা, ২ জানুয়ারি — একদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে সমাধিস্থল এলাকায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সাধারণ মানুষের জন্য সমাধিস্থল খুলে দেওয়া হলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। বিজয় সরণি মোহনার মূল প্রবেশপথ বন্ধ থাকলেও ক্রিসেন্ট লেকের পাশ দিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়। পুরো এলাকায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ছিল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দলের শীর্ষ ও তৃণমূল নেতারা কবর জিয়ারত করেন। দোয়া শেষে নেতারা নেত্রীর স্মৃতিচারণ করেন এবং তার রাজনৈতিক আদর্শকে সামনে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।

সমাধিস্থলে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কেউ নীরবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, কেউ কোরআন তিলাওয়াত ও দরুদ শরিফ পাঠ করেন। অনেককে চোখের জল ধরে রাখতে দেখা যায়।

মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি কাজী আমীর খসরু বলেন, খালেদা জিয়া আজীবন শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করেছেন। তার জানাজায় মানুষের ঢল প্রমাণ করে তিনি কতটা প্রিয় ছিলেন।

কুড়িগ্রাম থেকে আসা যুবদল কর্মী সুলতান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাকে স্মরণ করবে।

রাষ্ট্রীয় শোকের তিন দিনের কর্মসূচির আজ শেষ দিন। এ উপলক্ষে দেশের সব মসজিদে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোক পালন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নীতি পর্যায়ে প্রথম বক্তব্যে ঐক্যের বার্তা জাইমা রহমানের

নীতি পর্যায়ে প্রথম বক্তব্যে ঐক্যের বার্তা জাইমা রহমানের