বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়লেও যাত্রীসেবার মান নিয়ে অভিযোগ কমেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলওয়ের মোট আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২১ কোটির বেশি। এর মধ্যে শুধু যাত্রী খাত থেকেই আয় বেড়েছে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা। তবে এই আয় বৃদ্ধির বিপরীতে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা, বগির অবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
নোয়াখালী-ঢাকা রুটের উপকূল এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এসি কোচে টিকিট কেটেও অনেক সময় এসি কাজ করে না। বৃষ্টির সময় কোচের ছাদ দিয়ে পানি পড়া, ভাঙা আসন, নোংরা পরিবেশ এবং রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
এদিকে লোকোমোটিভ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চলাচল করছে। বিজয় এক্সপ্রেস, কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বে চলেছে। রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যবহৃত ২৯০টি লোকোমোটিভের অর্ধেকের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ বা কার্যক্ষমতা হারানোর পথে।
স্টেশন ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে নানা সমস্যা। ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে হকারদের দখল, যাত্রীসেবার ঘাটতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি ট্রেনে ঢিল নিক্ষেপ ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুবক্তগীন জানিয়েছেন, যাত্রীসেবা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে রেলকে ভবিষ্যতে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
তবে যাত্রীদের দাবি, শুধু আয় বৃদ্ধি নয়, নিরাপদ, সময়নিষ্ঠ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান অগ্রাধিকার।
কসমিক ডেস্ক