ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসনে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য পুনরায় নির্দেশনা জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৪ অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী অবশ্যই ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বে এই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক কর্মকর্তার সম্পদের তথ্য এখনো জমা পড়েনি। ফলে বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে নির্ধারিত ছকে তথ্য প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব শ্রেণির কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে তাদের মধ্যে রয়েছেন কানুনগো, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, প্রসেস সার্ভার, অফিস সহায়ক, চেইনম্যান ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সব কর্মচারী।
তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদধারীরা এই তালিকার বাইরে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ, যার উদ্দেশ্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসনে যারা কাজ করেন তাদের আর্থিক অবস্থার হালনাগাদ তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের সম্পদ অর্জন ও আর্থিক অবস্থার তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ কারণে সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিশেষ করে যেসব কর্মকর্তার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি, তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের আর্থিক স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহির সংস্কৃতি জোরদার হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রশাসনে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক