ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘এইচ’ গ্রুপে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে উরুগুয়ে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও শেষ দিকে গোল করে হার এড়ায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করে উরুগুয়ে। প্রথম কয়েক মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সৌদি গোলরক্ষক মোহামেদ আল-ওয়াইস দৃঢ়তার সঙ্গে তা প্রতিহত করেন। প্রথমার্ধে বেশিরভাগ সময় আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায়নি উরুগুয়ে।
অন্যদিকে, সুযোগ কম পেলেও কার্যকর আক্রমণ চালায় সৌদি আরব। ৪১তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে আল আমরি কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। গোলের পর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। সমতায় ফেরার লক্ষ্যে একের পর এক আক্রমণ চালায় উরুগুয়ে। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করলেও সৌদি রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক আল-ওয়াইস বারবার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বিশেষ করে ৬০তম মিনিটে মানুয়েল উগার্তের শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আল-ওয়াইস। ম্যাচজুড়ে তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ সৌদি আরবকে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকতে সহায়তা করে।
অবশেষে ৮০তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় উরুগুয়ে। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে তৈরি হওয়া সুযোগ থেকে মাক্সি আরাউহো দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান। গোলের পর জয়ের লক্ষ্যে আরও আক্রমণ বাড়ায় উরুগুয়ে।
শেষ মুহূর্তগুলোতে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও আর কোনো গোল হয়নি। যোগ করা সময়েও ফেদেরিকো ভালভের্দের বিপজ্জনক শট রুখে দিয়ে নিজের দলকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট এনে দেন সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস।
পরিসংখ্যানে ম্যাচে আধিপত্য ছিল উরুগুয়ের। তারা বলের দখল ধরে রাখে ৬৫ শতাংশের বেশি সময় এবং মোট ২৮টি শট নেয়, যার ১০টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে সৌদি আরব ৭টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের লড়াই আরও জমে উঠেছে। সৌদি আরব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে, আর উরুগুয়ে শেষ মুহূর্তে ফিরে এসে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে।
কসমিক ডেস্ক