প্রযুক্তিগত স্নায়ুযুদ্ধ এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ড্রোন প্রযুক্তি বৈশ্বিক সামরিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এআই-চালিত ড্রোন ও মানববিহীন যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চীন ও রাশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, বেইজিং ও মস্কো এমন উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে এবং মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশেষ করে চীনের সামরিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সামরিক প্যারেডে চীনের উন্নত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রদর্শিত হয়, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে প্রদর্শিত ‘জিউটিয়ান’ বা ‘হাই স্কাই’ নামের বিশাল ড্রোনটি একটি মাদারশিপ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা আকাশ থেকে একসঙ্গে প্রায় ১০০টি ছোট কামিকাজে ড্রোন ছাড়তে সক্ষম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের শক্তিশালী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এই অগ্রগতির প্রধান কারণ। বাণিজ্যিক প্রযুক্তি ও সামরিক প্রয়োজনে দ্রুত রূপান্তরের সক্ষমতা চীনকে এই খাতে এগিয়ে নিচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়াও এআই ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধকে তারা নতুন ড্রোন প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাশিয়ার ল্যানসেট ড্রোনের স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা ইতোমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা দেখিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও পুরনো প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে পিছিয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পেন্টাগন দীর্ঘদিন ধরে বড় আকারের যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ায় ছোট, সাশ্রয়ী ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য ড্রোন প্রযুক্তিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ওয়াশিংটনের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রভিত্তিক বাস্তব অভিজ্ঞতা তাদের ড্রোন প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করছে।
এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক সামরিক শক্তির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে এআই-নির্ভর অস্ত্র ব্যবস্থা ভবিষ্যতে যুদ্ধের ধরন সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক