চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। রিটে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে আয়োজনের পূর্বশর্ত হিসেবে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়েছে।
রিটে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও এসব অস্ত্রের বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। ফলে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলে ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
রিটকারী আইনজীবীর দাবি, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করা। অথচ অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থতা এবং চলমান নিরাপত্তা সংকট সেই দায়িত্ব পালনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জনস্বার্থে নির্বাচন স্থগিত করে আগে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া জরুরি।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। এসব বিবাদীর কাছে অস্ত্র উদ্ধারে গৃহীত পদক্ষেপ ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রিটে উল্লেখ করেন, অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া মানে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটার ভীতি তৈরির আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। যা গণতন্ত্র ও সংবিধানপরিপন্থী।
আইন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রিট নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে আনবে। আদালত যদি রুল জারি করেন, তবে অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
রিটটি শিগগিরই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
কসমিক ডেস্ক