আইনশৃঙ্খলার অবনতি: অপরাধীরা কেন ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আইনশৃঙ্খলার অবনতি: অপরাধীরা কেন ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
আইনশৃঙ্খলার অবনতি: অপরাধীরা কেন ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে ছবির ক্যাপশন:
ad728

প্রতিদিন সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই যে খবরগুলো মানুষকে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করে, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই ও নানা নৃশংস অপরাধের ঘটনা। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি সাধারণ মানুষের মনে একটি মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—আইনশৃঙ্খলা কি কেবল নীতিগত ঘোষণায় সীমাবদ্ধ? অপরাধীরা কেন দিন দিন আরও নির্ভীক ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে?

এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক গভীর ও পরস্পর-সংযুক্ত কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি। গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরও যখন দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত হয় না, তখন অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে যায়। বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকা, সাক্ষীর অভাবে বিচার না হওয়া কিংবা আইনের ফাঁক গলে অপরাধীর বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ন্যায়বিচারের আশা হারাতে শুরু করে।

অপরাধ বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো রাজনীতি ও পেশিশক্তির অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চিহ্নিত অপরাধীরা কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থাকে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়া অপরাধীদের মধ্যে এমন এক দম্ভ তৈরি করে, যেখানে তারা আইন বা প্রশাসনকে তোয়াক্কা করে না। এর ফলে চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যেই ঘটতে থাকে।

আইন দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, যদি সমাজে নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিবার ও সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়, সন্তানদের প্রতি নজরদারির ঘাটতি এবং সহনশীলতার সংকট কিশোর অপরাধ ও সহিংস প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ প্রমাণ করে, সমাজে সংযম ও সহমর্মিতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

মাদকের বিস্তার অপরাধ জগতের জন্য এক ধরনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। সহজলভ্য মাদক যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক সংগ্রহের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা হত্যার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তির বিচারবোধ দুর্বল হয়ে পড়ায় সমাজে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা সীমাবদ্ধতাও অপরাধ দমনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল সংকট, আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে। আবার কোথাও কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে।

এই সংকট থেকে উত্তরণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অপরাধীর পরিচয় নির্বিশেষে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জনবান্ধব কাঠামোয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও অপরাধ কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি কোনো একক গোষ্ঠীর সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অপরাধীরা যখন বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি নিরাপদ, মানবিক ও ভীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজকে একযোগে দায়িত্ব নিতে হবে। এখনই সময় দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়ানোর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শোকবার্তা

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শোকবার্তা