দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় তা ফিরে পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া। কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন (লালমাই–নাঙ্গলকোট) থেকে তার মনোনয়ন বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি রিট আবেদন দাখিল করেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আদালতের কার্যতালিকায় আবেদনটি ৬৫ নম্বর ক্রমিকে তালিকাভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের (মুক্তি জোট) প্রার্থী কাজী নুরে আলম সিদ্দিক। রোববার বিকেলে নির্বাচন ভবনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। নির্বাচন আইন অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য গোপন করাকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণেই কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট–লালমাই) আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের পরপরই বিএনপি প্রার্থী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার আইনজীবীরা জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত সংবিধান ও নির্বাচন আইনের পরিপন্থী দাবি করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আদালতে এ বিষয়ে দ্রুত শুনানি প্রত্যাশা করছেন তারা।
নির্বাচনী তপশিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারিত রয়েছে। এসব সময়সীমার মধ্যে আদালতের কোনো নির্দেশনা এলে নির্বাচনী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লা-১০ আসনের এই আইনি জটিলতা নির্বাচনের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটাররা।
কসমিক ডেস্ক