পাঁচ মাস্টারপ্ল্যানে সেন্টমার্টিনকে প্রকৃতির কাছে ফেরানোর পরিকল্পনা সরকারের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পাঁচ মাস্টারপ্ল্যানে সেন্টমার্টিনকে প্রকৃতির কাছে ফেরানোর পরিকল্পনা সরকারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
পাঁচ মাস্টারপ্ল্যানে সেন্টমার্টিনকে প্রকৃতির কাছে ফেরানোর পরিকল্পনা সরকারের ছবির ক্যাপশন:
ad728

সেন্টমার্টিন দ্বীপকে তার আগের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পর্যটনের নামে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপটির পরিবেশ ধ্বংসের প্রধান কারণ।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা।

সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের সংবেদনশীল দ্বীপে রাতযাপন নিষিদ্ধ। ট্যুরিজম আর সেন্টমার্টিন এক বিষয় নয়। লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীপটিকে তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।

তিনি জানান, সেন্টমার্টিন রক্ষায় প্রস্তাবিত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যান ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এই পরিকল্পনা সফল করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপের পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল কারণ। স্থানীয় মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো সংরক্ষণ বা উন্নয়ন টেকসই হবে না।

দ্বীপবাসীর বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাস্টারপ্ল্যানে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সংরক্ষণকে, অর্থনীতি ও পর্যটন আসবে তার পরে।

সেন্টমার্টিন বারবিকিউ বা লাউডস্পিকারের জায়গা নয় উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এটি প্রকৃতির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। স্থানীয়দের ঘরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেটিই হবে হোটেল ও রিসোর্টনির্ভর পর্যটনের টেকসই বিকল্প।

তিনি আরও জানান, দ্বীপের ভাঙন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সরকারিভাবে নিয়মিত নজরদারিতে রয়েছে। সেন্টমার্টিনের সামাজিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্বীপে কুকুর অনাহারে বা অপুষ্টিতে ভুগছে—এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়। প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

সরকারের এই অবস্থানের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধবভাবে সংরক্ষণের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ