দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কার্যক্রম ও প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তিনি পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিংয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেনিং সেন্টার, মেইন কন্ট্রোল রুম, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, ওয়াটার সিস্টেম ও কুলিং টাওয়ার ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারিগরি সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান উপদেষ্টাকে প্রকল্পের সেফটি সিস্টেম, নির্মাণ কাজের বর্তমান অবস্থা এবং পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রকল্পে কর্মরত সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে রূপপুর প্রকল্প জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হবে, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
এ সময় পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমান এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মান ও কঠোর নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করে নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শেষ ধাপের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
কসমিক ডেস্ক