নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: সব বৈধ অস্ত্র জমার সিদ্ধান্ত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: সব বৈধ অস্ত্র জমার সিদ্ধান্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 27, 2025 ইং
নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: সব বৈধ অস্ত্র জমার সিদ্ধান্ত ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে যেসব নাগরিকের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের আগেই জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আগে এসব অস্ত্র আর ফেরত দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগ্নেয়াস্ত্র জমা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারি করা হবে। এর মাধ্যমে অস্ত্র জমার সময়সীমা, পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।

এরই মধ্যে গত ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫’ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও চূড়ান্ত প্রার্থীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নীতিমালা জারির পর থেকেই সারা দেশ থেকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান চেয়ে আবেদন জমা পড়ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অনেক রাজনৈতিক নেতা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন প্রথমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দিতে হয় এবং রিভলবার ও পিস্তলের মতো অস্ত্রের ক্ষেত্রে তা মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্মতি মিললে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত একাধিক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্স বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আবেদন করলেই লাইসেন্স মিলবে না। নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর কেবল তাঁদের আবেদন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছিল। গত বছরের গণ–আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এসব লাইসেন্স স্থগিত করে অস্ত্র জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব অস্ত্র জমা পড়েনি।

পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে কিছু অস্ত্র মালিককে অস্ত্র ফেরত দেওয়া হলেও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় নতুন করে আবার অস্ত্র জমার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি যাঁরা এর আগে অস্ত্র ফেরত পেয়েছিলেন, তাঁদেরও পুনরায় অস্ত্র জমা দিতে হবে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের সহিংসতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন ও বিধির মধ্য থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কালীগঞ্জে র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে ৯৬ বোতল এস্কাফসহ একজন আটক

কালীগঞ্জে র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে ৯৬ বোতল এস্কাফসহ একজন আটক