আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
বুধবার (তারিখ অনুযায়ী) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আদালতে উপস্থিত অবস্থায় বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনান।
আদেশে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তিনটি অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ পাঠ শেষে বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী আসামির উদ্দেশে জানতে চান, তিনি দোষ স্বীকার করেন কি না। জবাবে দাঁড়িয়ে জিয়াউল আহসান বলেন, তিনি দোষী নন।
এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ তাদের প্রাথমিক বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।
আইনজীবী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই মামলাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান পর্যায়ে প্রবেশ করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সে দিকে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক