কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল সেমাই ও বেকারিপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে একটি বেকারিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। খাদ্য উৎপাদনে টেক্সটাইলের রং ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে বেকারির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘কুমিল্লা বেকারি’ নামের একটি কারখানায় উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাৎ হোসেন। এ সময় বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক খন্দকার জামিনুর রহমান এবং ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় বেকারির উৎপাদন কক্ষ পরিদর্শন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, লাচ্চা সেমাই ও অন্যান্য বেকারিপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় খাদ্যপণ্য উৎপাদনে অনুমোদিত খাদ্য রং ব্যবহার না করে টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত রং ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দেখা যায়। এছাড়া উৎপাদন কক্ষে পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা।
এছাড়া ভেজাল সেমাইসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছিল না। খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযানে উঠে আসে।
এসব অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মোবাইল কোর্ট আইন, ২০১৮ এবং বিএসটিআই আইনের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বেকারির মালিক দীন ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যপণ্য উৎপাদনে অনুমোদিত মান বজায় না রাখলে তা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেকারির উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, ভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
ইউএনও আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সব খাদ্য ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি করেন।
কসমিক ডেস্ক