নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজিব শিমরাইল এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে যেসব অর্থ আদায় করা হয়েছে, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালকদের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন সজিব। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, শিমরাইল সিএনজি স্ট্যান্ডে এ রহমান সুপার মার্কেটের সামনে থেকে স্টিকারের মাধ্যমে প্রতিটি সিএনজি চালকের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি লেখেন, যেসব চালকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বচ্ছভাবে ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি।
খায়রুল ইসলাম সজিব আরও উল্লেখ করেন, দুর্বল ও পরিশ্রমী মানুষের পাশে থাকার অবস্থান থেকেই তিনি এ বার্তা দিচ্ছেন। কারও কষ্টার্জিত অর্থ জোরপূর্বক নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও পোস্টে স্পষ্ট করেন তিনি। দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার পরামর্শ দেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘মা বাবার দোয়া যাত্রী সেবা পরিবহন’ নামে একটি স্টিকার ব্যবহার করে শিমরাইল এলাকার বাসিন্দা আলমাছ মুন্সী, পুলিশের সোর্স জসিম উদ্দিন, হারুন মিয়া ও সোহেল মিয়া সিএনজি চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি সিএনজি থেকে অগ্রিম দুই হাজার টাকা এবং প্রতিদিন ৪০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে শিমরাইল এলাকায় গিয়ে সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে শতাধিক সিএনজি থেকে এই স্টিকার বাবদ অর্থ নেওয়া হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, স্টিকার না থাকলে তাদের মারধর করা হয় এবং স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখতে দেওয়া হয় না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন।
চালকরা আরও জানান, গত বছরের পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘ সময় কাউকে চাঁদা দিতে হয়নি। তবে সম্প্রতি আবারও চাঁদার নামে তাদের জিম্মি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আলমাছ মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে Siddhirganj Police Station-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সব মিলিয়ে, শিমরাইল এলাকায় সিএনজি চালকদের কাছ থেকে স্টিকারকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এমপিপুত্রের প্রকাশ্য ঘোষণার পর বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হয় কি না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ কী হয়—সেদিকে নজর থাকছে সংশ্লিষ্টদের।
কসমিক ডেস্ক