ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে কারা? একে একে যেসব দেশ হুমকির মুখে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে কারা? একে একে যেসব দেশ হুমকির মুখে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 6, 2026 ইং
ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে কারা? একে একে যেসব দেশ হুমকির মুখে ছবির ক্যাপশন:
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমেই আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিচ্ছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে কারাকাসের সুরক্ষিত বাসভবন থেকে নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে আটক করার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন তার নতুন কৌশল—‘ডনরো ডকট্রিন’। ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিনের আদলে গড়া এই নীতির লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

ভেনেজুয়েলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হোয়াইট হাউসের নজরে এসেছে আরও কয়েকটি দেশ। ট্রাম্পের বক্তব্য ও হুমকিতে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন নতুন করে শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছে।

গ্রিনল্যান্ড: কল্পনা না কৌশল?

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়, তবে এবার তা আরও প্রকাশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে ইতিমধ্যে পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন, কারণ ওই অঞ্চল রাশিয়া ও চীনের নৌযানে পরিপূর্ণ।

বিশাল এই আর্কটিক দ্বীপটি বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বও বেড়েছে।

তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষাকে ‘ফ্যান্টাসি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও কড়া ভাষায় বলেছেন, কোনো ন্যাটো মিত্রের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে সম্পর্ক ছিন্ন হবে।

কলম্বিয়া: মাদক ও হুমকির রাজনীতি

ভেনেজুয়েলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে বলেন, ‘নিজেকে বাঁচান’। কলম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে কোকেন উৎপাদন ও পাচারের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহের জন্য কলম্বিয়া দায়ী। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন এবং ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে সেখানে অভিযান চালানো হতে পারে।

ইরান: কঠোর আঘাতের বার্তা

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার ভাষায়, বিক্ষোভকারীদের দমন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব বড় আঘাত’ হানতে পারে।

যদিও ইরান ডনরো ডকট্রিনের আওতার বাইরে, তবুও গত বছর দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকেই ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।

মেক্সিকো: কার্টেল দমনের অজুহাত

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তকে আবারও প্রধান ইস্যুতে পরিণত করেছেন। তিনি মেক্সিকো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের অভিযোগ তুলে কার্টেল দমনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাম অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার দেশের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সামরিক অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়।

কিউবা: অপেক্ষার কৌশল

কিউবার ওপর দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কিউবার জ্বালানি নির্ভরতা থাকায় মাদুরোর পতনের পর দেশটি বড় সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের মতে, কিউবায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই, কারণ দেশটি ‘নিজে থেকেই ভেঙে পড়ছে’। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কিউবায় সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পেটের আলসারে স্বস্তি দিতে পারে যেসব পানীয়

পেটের আলসারে স্বস্তি দিতে পারে যেসব পানীয়