ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনে প্রায় তিন দশক পর বিএনপি জয়লাভ করেছে। অর্ধলাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর এ আসনে ধানের শীষের জয় ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপকূলীয় এ আসনটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্যবন্দর, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং সম্ভাবনাময় দ্বীপাঞ্চল রাঙ্গাবালী উপজেলা। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিগত বছরগুলোতে পর্যটন ও অবকাঠামো খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি।
বিজয়ী প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, “এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত জয় নয়, উপকূলবাসীর জয়। মানুষ উন্নয়ন, স্বচ্ছ রাজনীতি ও নিরাপদ জীবনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যটন, মৎস্য ও বিদ্যুৎ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কাজ করব।”
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, প্রায় ত্রিশ বছর পর এ আসনে ধানের শীষের জয় প্রমাণ করেছে– উপকূলবাসী পরিবর্তন চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ আসনকে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির নেতা বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। একজন মন্ত্রী পেলে উপকূলীয় সড়ক, টেকসই বেড়িবাঁধ, পর্যটন অবকাঠামো ও মৎস্য খাতের আধুনিকায়নে গতি আসবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এই অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ জরুরি। তাদের প্রত্যাশা– এই বিজয় যেন শুধু রাজনৈতিক পালাবদলেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তব উন্নয়নের মাধ্যমে উপকূলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তন ঘটায়।
কসমিক ডেস্ক