১৪ মাসে আ.লীগের ৫৬ হাজারের বেশি গ্রেফতার, জামিনে মুক্ত ৭০ শতাংশ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

১৪ মাসে আ.লীগের ৫৬ হাজারের বেশি গ্রেফতার, জামিনে মুক্ত ৭০ শতাংশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 15, 2025 ইং
১৪ মাসে আ.লীগের ৫৬ হাজারের বেশি গ্রেফতার, জামিনে মুক্ত ৭০ শতাংশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

গত ১৪ মাসে দেশজুড়ে চলমান অভিযানে ফ্যাসিস্ট দোসর হিসেবে মোট ৫৬ হাজার ১৮৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক গ্রেফতারের পরও বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র—গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭০ শতাংশই পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ফলে কঠোর অভিযান, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছিল। বিভিন্ন জেলায় সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। তবে মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় দুর্বলতার কারণে আদালতে জামিন পাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল গ্রেফতার সংখ্যা বাড়ালেই বিচার নিশ্চিত হয় না। মামলার গুণগত মান, নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য ও শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন না করতে পারলে অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে যান। এতে একদিকে যেমন ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা বাড়ে, অন্যদিকে অভিযানের উদ্দেশ্যও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গণগ্রেফতারের বদলে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণভিত্তিক মামলা পরিচালনা জরুরি। নইলে অপ্রয়োজনীয় গ্রেফতার যেমন বাড়বে, তেমনি আদালতে চাপ সৃষ্টি হবে এবং শেষ পর্যন্ত অধিকাংশই জামিনে বেরিয়ে আসবে। তারা আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো না গেলে এই প্রবণতা কমবে না।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামিনে মুক্তির উচ্চহার জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। একদিকে সরকার কঠোর অবস্থানের কথা বলছে, অন্যদিকে বাস্তবে অধিকাংশ অভিযুক্তই দ্রুত মুক্তি পাচ্ছেন। এই দ্বৈত বাস্তবতা আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের ওপর জনগণের আস্থা দুর্বল করতে পারে বলে তারা সতর্ক করছেন।

সামগ্রিকভাবে, ১৪ মাসে বিপুলসংখ্যক গ্রেফতার হলেও ৭০ শতাংশের জামিনে মুক্তি পাওয়ার তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, গ্রেফতারের পাশাপাশি কার্যকর তদন্ত ও শক্ত বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ অভিযানের মধ্যেও থামছে না খুন, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

বিশেষ অভিযানের মধ্যেও থামছে না খুন, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা