ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। শোকানুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি প্রতিশোধের আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানও শোনা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার একটি অংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিছু অংশগ্রহণকারী প্রতিশোধমূলক স্লোগান দেন, যার মধ্যে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সহিংস আহ্বানও ছিল। এসব স্লোগান উপস্থিত জনতার একটি অংশ থেকে আসে এবং তা তাদের নিজস্ব বক্তব্য; এগুলো ইরানি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস পর এই দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে অংশ নিতে বহু মানুষ আগের রাত থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অবস্থান করেন। সকালবেলায় জাতীয় পতাকা ও লাল পতাকা হাতে অনেককে খামেনির ছবি বহন করতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানস্থলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানও শোনা যায়।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে কবি মোহাম্মদ রসৌলি বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান। উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারীও একই ধরনের বক্তব্য দেন। স্থানীয় বাসিন্দা গোলামরেজা সাবুনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রতিশোধের দাবি তুলতে অনুষ্ঠানে এসেছেন।
পরে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় লেখেন, একজন মানুষকে হত্যা করা সম্ভব হলেও তার আদর্শকে হত্যা করা যায় না। তিনি দাবি করেন, খামেনির মৃত্যু তার অনুসারীদের বিশ্বাসকে দুর্বল করতে পারেনি।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর বলেন, জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের উপস্থিতি দুটি বার্তা বহন করছে—দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নিহত নেতার স্মৃতিকে সম্মান জানানো।
জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এবং কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যেও শীর্ষ নেতৃত্বের প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
অনুষ্ঠানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভাইদের দেখা গেলেও মোজতবা নিজে উপস্থিত ছিলেন না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে আহত হওয়ার পর তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
জানাজার নামাজে শিয়া ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি ইমামতি করেন। এরপর খামেনির মরদেহ বিভিন্ন শহরে নেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানে শোকযাত্রা শেষে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বহু বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, নৌপথে চলাচল অব্যাহত থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি এবং মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক