নড়াইল জেলার লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাঁকা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জিরু কাজীও রয়েছেন। আহতরা প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নড়াইল জেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে শুক্রবার দুপুরে একটি স্যালোমেশিনের পাম্প চুরির ঘটনায়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং শনিবার সকালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
সংঘর্ষের সময় গ্রামজুড়ে চিৎকার-চেচামেচি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আহতদের উদ্ধার করতে স্থানীয়রা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, “বাঁকা গ্রামের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।”
জানাগেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় ভাঙচুরও হয়েছে কিছু সম্পত্তিতে। সংঘর্ষের সময় গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়রা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
পুলিশ এই ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আরও তৎপরতা বাড়ানো হবে।
গ্রামীণ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পারিবারিক বা দলীয় দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলার ফলে প্রায়শই স্থানীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এই ধরনের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সমাজের শান্তি মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়। স্থানীয়দের মতে, সমস্যা সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও মধ্যস্থতার প্রয়োজন।
উপজেলার অন্যান্য নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হবে। এই ধরনের ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশি তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা একবার আবার প্রমাণ করেছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেছে, ছোটখাটো বিরোধও দ্রুত বিস্তৃত সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তাই গ্রামীণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়মিত সংলাপ, স্থানীয় নেতৃত্বের সচেতনতা এবং প্রশাসনের সক্রিয় নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
কসমিক ডেস্ক