দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ, মরিচা ধরছে রড ক্ষতির মুখে সরকারি প্রকল্প The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ, মরিচা ধরছে রড ক্ষতির মুখে সরকারি প্রকল্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 10, 2026 ইং
দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ, মরিচা ধরছে রড ক্ষতির মুখে সরকারি প্রকল্প ছবির ক্যাপশন:

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ছয় কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ গত দুই বছর ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। ফলে নির্মাণসাইটে থাকা রড, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণাধীন কমপ্লেক্স ভবনে প্রশাসনিক কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিস এবং আধুনিক কনফারেন্স সুবিধা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের ঠিকাদারি দায়িত্ব পায় খুলনাভিত্তিক মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং।

প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় একাধিকবার সময় বৃদ্ধি করা হয়। তারপরও বর্ধিত সময় শেষে প্রকল্পের মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নির্মাণকাজ চলাকালে অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ২০ মিলিমিটার রড ব্যবহারের পরিবর্তে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার পর নির্মিত ১২টি আরসিসি পিলার ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ব্যাহত হয় এবং অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে নির্মাণশ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করেই ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা কাজ বন্ধ করে চলে যান বলে জানা গেছে। এর পরবর্তী সময়ে প্রকল্প কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও কার্যকর সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল ভবনের পাশের কনফারেন্স হল অংশে দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রডে মরিচা ধরেছে। এছাড়া কিছু রড চুরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভবনের কাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) যোবায়েত হোসাইন জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে যৌথ পরিমাপ বা জয়েন্ট মেজারমেন্টের জন্য তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার যোগাযোগ না করলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যৌথ পরিমাপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কামাল খান পাশার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প ঝুলে থাকায় জনগণ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি দ্রুত পুনরায় চালু করা না গেলে নির্মাণসামগ্রীর আরও ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানের বৈঠক

পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানের বৈঠক