রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চুরি ও ছিনতাই রোধে সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নির্বাচনের দিন সংঘর্ষে আহতদের দেখতে গিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব ঘোষণা দেন।
ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অপপ্রচারের বিষয়ে চিন্তিত নই। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে। এই হামলাকে আমরা আইন ছাড়া ছেড়ে দেব না। প্রত্যেক আহত কর্মীর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, সেনা ক্যাম্প সরে যাওয়ায় মোহাম্মদপুর ও আদাবরের এলাকায় পুলিশের কার্যক্রম শক্তিশালী করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চুরি-ছিনতাই কমাতে ৫৫০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বসিলায় নতুন পুলিশ ক্যাম্প তৈরি করা হবে, ২০টি পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে এবং টহল গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য হলো স্থানীয় এলাকায় অপরাধ কমানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের পরিকল্পনা সবসময় সুসংগঠিত। মোহাম্মদপুর এবং আশপাশের এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হলে চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তা ও সচেতনতা জরুরি। এলাকার মানুষ যাতে পুলিশকে সহযোগিতা করে, সেই চেষ্টা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই পুলিশকে আরও কার্যকরী ও সজ্জিত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপ মোহাম্মদপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিসিটিভি স্থাপন এবং পুলিশ ক্যাম্পের মাধ্যমে অপরাধের নজরদারি আরও সহজ হবে। এছাড়া পুলিশ টহল ও বক্স বৃদ্ধির ফলে জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শহরের অন্যান্য অংশের মতো মোহাম্মদপুরে সিসিটিভি এবং পুলিশ ক্যাম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে অপরাধীদের জন্য কার্যকর deterrent হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অস্বাভাবিক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুর এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাসিক এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় সিসিটিভি ও পুলিশ ক্যাম্পের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ববি হাজ্জাজের ঘোষণা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন যে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধের হার কমবে এবং এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরে আসবে।
কসমিক ডেস্ক