ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ছবির ক্যাপশন: ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড়

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত ইস্যুতে তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নেপালের সংসদে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়।

রবিবার সংসদে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, শুধু ভারতই নয়, নেপালও ভারতের কিছু ভূখণ্ডে ‘দখল’ করে রেখেছে। তার এই মন্তব্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সংসদে তীব্র হট্টগোল শুরু হয় এবং বিরোধী দলগুলো বক্তব্যটি সংসদীয় রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিকরা স্পষ্টভাবে বলেন, নেপাল রাষ্ট্র হিসেবে কখনোই ভারতের কোনো ভূখণ্ড দখল করেনি।

তাদের মতে, মূল সমস্যাটি হলো সীমান্ত নির্ধারণের ঐতিহাসিক জটিলতা। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পুরোনো সীমান্ত পিলার হারিয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনিক বিভ্রান্তির কারণে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘দশগজা’ বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে দুই দেশের নাগরিকরা একে অপরের জমিতে চাষাবাদ বা বসবাস করে আসছেন। তবে এটিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের দখলদারত্ব হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি মূলত ‘ক্রস-বর্ডার ইউজ’ বা পারস্পরিক ভূমি ব্যবহারের ফল, যা দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক জটিলতার কারণে তৈরি হয়েছে। তাই এটিকে সরাসরি কোনো দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড দখল বলা আন্তর্জাতিকভাবে সঠিক নয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহ সংসদে আরও জানান, সীমান্ত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে নেপাল সরকার ইতোমধ্যে ভারত ও চীনের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক সুগৌলি চুক্তির ভিত্তিতে ব্রিটিশ সরকারের কাছেও মধ্যস্থতার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তার এই বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত অঞ্চলে নাগরিকদের পারস্পরিক জমি ব্যবহারের বাস্তবতাকে তুলে ধরা, কোনো রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড দখলের দাবি নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারের অবস্থান পরিষ্কার এবং নেপাল কোনো দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড দখল করে রাখে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সীমান্ত ইস্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অস্পষ্ট শব্দচয়ন এবং ব্যাখ্যাহীন মন্তব্য ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহের মন্তব্য এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নেপালের কূটনৈতিক অবস্থান এবং সীমান্ত নীতিকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মহেশপুরে বিএনপি অফিসে আগুন, দুই ককটেল বিস্ফোরণ

মহেশপুরে বিএনপি অফিসে আগুন, দুই ককটেল বিস্ফোরণ